Homeআন্তর্জাতিকপান্ডা কূটনীতির অবসান: জাপান-চীন সম্পর্কে প্রতীকী ক্ষতি

পান্ডা কূটনীতির অবসান: জাপান-চীন সম্পর্কে প্রতীকী ক্ষতি

-

জাপানের শেষ দুটি জায়ান্ট পান্ডা শিগগিরই চীনে ফিরে যাচ্ছে—এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই টোকিওর উয়েনো চিড়িয়াখানায় তাদের এক ঝলক দেখতে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। অনেকেই চোখের জলে যমজ পান্ডা শিয়াও শিয়াও ও লেই লেইকে বিদায় জানান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চার বছর বয়সী এই দুই পান্ডাকে জানুয়ারির শেষ নাগাদ চীনে ফেরত পাঠানো হবে। চীন ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে। 

সোমবার এ ঘোষণা জাপানজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। পান্ডাপ্রীতির জন্য পরিচিত দেশটিতে বিষয়টি হতাশারও।

সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে অনেকেই এটিকে চীন–জাপান সম্পর্কের এক প্রতীকী ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বলে জানায় রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উয়েনো চিড়িয়াখানার সামনে পান্ডার টুপি, ব্যাগ ও নানা সামগ্রী পরে ভক্তরা শেষবারের মতো প্রিয় প্রাণীগুলোকে দেখতে অপেক্ষা করছেন।

আতিথেয়তা খাতের কর্মী হিরোইয়ো কাশিও রয়টার্সকে বলেন, ‘পান্ডারা চীনের হলেও আমি চাই তারা আজীবন জাপানেই থাকুক। যেহেতু তারা এখানে জন্মেছে।’

২০২১ সালের জুনে উয়েনো চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া শিয়াও শিয়াও ও লেই লেই তাদের বাবা-মা বিদায় নেওয়ার পর থেকেই দর্শকদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়। 

তারা চলে গেলে ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম জাপানে আর কোনো জায়ান্ট পান্ডা থাকবে না বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

রয়টার্স জানায়, ওই বছরই চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল জাপান। আর তখনই দেশটিতে ‘পান্ডা বুম’ শুরু হয়।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পান্ডা কূটনীতি’ নামে পরিচিত নীতির আওতায় চীন দীর্ঘদিন ধরে মিত্র দেশগুলোকে পান্ডা দিয়ে আসছে। তবে ১৯৮৪ সালে নীতি বদলে চীন পান্ডার মালিকানা নিজের কাছেই রেখেছে। বিদেশে জন্ম নেওয়া শাবকদের চুক্তির মেয়াদ শেষে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

উয়েনো চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীদের ব্যাপকের চাপ সামলাতে গত মঙ্গলবার থেকেই পান্ডা প্যাভিলিয়নে দর্শনের সময় এক মিনিট নির্ধারণ করেছে দেশটি। এমনকি শেষ ১২ দিনের জন্য লটারির মাধ্যমে দর্শক নির্বাচনও করা হবে।

৫৪ বছর বয়সী অর্থখাতের কর্মী মাচিকো সেকি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘পান্ডারা আমাকে শক্তি, সাহস আর প্রশান্তি দিয়েছে। আজ কেবল কৃতজ্ঞতা জানাতেই এসেছি।’

ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, চিড়িয়াখানায় পান্ডা না থাকলে জাপান বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ইয়েন ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। কয়েক বছর এ অবস্থা চললে নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

যমজ পান্ডাদের বদলে নতুন পান্ডা আসবে কি না—এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবার কিছুটা সংযত। তাদের মুখপাত্র গো জিয়াকুন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমি জানি জাপানে অনেকেই জায়ান্ট পান্ডাকে ভালোবাসে। আমরা জাপানি বন্ধুদের চীনে এসে পান্ডা দেখার জন্য স্বাগত জানাই।’

ডয়চে ভেলে জানায়, অনেক জাপানির চোখে পান্ডা কেবল চিড়িয়াখানার প্রাণী নয়, বরং দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক। তাই তাদের বিদায় সম্পর্কে শীতলতার প্রতিফলনও।

LATEST POSTS

দুর্নীতিবাজদের হাত অবশ করে দেবো: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের হাতে মুড়িয়ে ব্যান্ডেজ করে অবশ করে দেবো। এই দেশে কেউ নেতা হলেই ৫ বছরে তার সম্পদ পাঁচশ গুণ...

এক ওভারে পাঁচ উইকেট নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার পেসারের ইতিহাস

ইন্দোনেশিয়ার পেসার গেদে প্রিয়ন্দানা টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতিহাস গড়েছেন। মঙ্গলবার বালিতে কম্বোডিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এক ওভারে পাঁচ উইকেট নিয়ে টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে...

যুগ্ম সচিবকে নিজের গাড়িতে জিম্মি করেন চালক, ৬ লাখ টাকা দাবি

পরিকল্পনা কমিশনের এক যুগ্ম সচিবকে তার নিজের সরকারি গাড়ির ভেতরে জিম্মি করে ৬ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন তারই চালক।আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায়...

হাঁসের ঢঙে হাঁটবে-খেলবে ছোট্ট রোবট ‘মাইক্রোডাক’

টেক জায়ান্ট এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে ছোট ছোট রোবট হাঁসের খুনসুটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাতেই হু হু করে বেড়েছে...

Most Popular