ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে ১-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে অদ্ভুত এক ঘটনার জন্ম দিয়েছে এভারটন। নিজেদের মধ্যেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ইদ্রিসা গুয়ে ও মাইকেল কিন। কিনকে চড় মারায় লাল কার্ড দেখেন গুয়ে। তবে ম্যাচশেষে এ ঘটনা নিয়ে বিস্ময়কর মন্তব্য করে এভারটন কোচ ডেভিড ময়েস বলেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন লড়াই তিনি ‘কিছুটা পছন্দই করেন’!
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাচের ১৩তম মিনিটে, স্কোরলাইনে তখনো গোল নেই। ইউনাইটেডের ব্রুনো ফের্নান্দেস একটি সুযোগ মিস করার ঠিক পরই গুয়ে ও কিন তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ডিফেন্ডার কিন দুবার গুয়েকে ধাক্কা দেন। উত্তেজিত গুয়ে এরপর খোলা হাতে চড় মারেন তার মুখে।
গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড দ্রুত দুজনকে আলাদা করেন। এরপর রেফারি টনি হ্যারিংটন সরাসরি লাল কার্ড দেখান গুকে, যা ভায়োলেন্ট কনডাক্ট হিসেবে ভিএআরও নিশ্চিত করে।
ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ময়েসের জবাব চমকে দেয় সবাইকে। বলেন, ‘জানো, খেলোয়াড়দের লড়াই আমি কিছুটা পছন্দ করি। আমি চাই তারা কঠিন হোক, কেউ ভুল করলে যেন তা মেনে না নেয়। জেতার মানসিকতা পেতে হলে এমন দৃঢ়তা থাকতে হয়।’
ম্যাচশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে গুয়ে লিখেছেন, ‘প্রথমেই মাইকেল কিনের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমার প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ভুল ছিল। এটি আমার চরিত্র নয়, ক্লাবের মূল্যবোধও নয়। আর কখনো এমন হবে না।’
ময়েস জানান, পড়ে দলীয় সভায় গুয়ে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলে সতীর্থরা তা হাততালি দিয়ে গ্রহণ করে।
হিংসাত্মক আচরণের নিয়ম অনুযায়ী মাথা বা মুখে ইচ্ছাকৃত আঘাত করলে লাল কার্ডই নিয়ম। তবে ইউনাইটেড কোচ রুবেন আমোরি ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন, ‘সহখেলোয়াড়ের সঙ্গে ঝগড়া হতে পারে। রেফারি নিয়ম বুঝিয়েছেন, তবুও আমি একমত নই।’
অপটা জানাচ্ছে, ২০০০-০১ মৌসুমের পর এই নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার কোনো খেলোয়াড় নিজের সতীর্থের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে প্রিমিয়ার লিগে লাল কার্ড দেখলেন। এর আগে ২০০৫ সালে নিউক্যাসলের বোয়ার-ডায়ার এবং ২০০৮ সালে স্টোকের ফুলার-গ্রিফিন এমন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।

