বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত হাঁটার গুরুত্ব আরও বাড়ে। কিন্তু ঢাকার মতো শহরে বয়স্ক মানুষের জন্য ভোরে বা সন্ধ্যায় খোলা জায়গায় হাঁটা সবসময় সহজ নয়। ভাঙা ফুটপাত, যানজট, ধুলা আর বৃষ্টির কারণে অনেক পরিবারই চিন্তায় থাকেন। তখন ঘরের ভেতরে ট্রেডমিলে হাঁটার ব্যবস্থা একটি স্বস্তিদায়ক বিকল্প হয়ে ওঠে।
তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ট্রেডমিল ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা দরকার। ভুল গতি বা অসাবধানতায় পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই লেখায় সহজ ভাষায় বলা হলো কীভাবে নিরাপদে শুরু করবেন।
শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ
যাঁর হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, জোড়ার ব্যথা, মাথা ঘোরার সমস্যা বা হাড়ের দুর্বলতা আছে, তিনি ট্রেডমিলে হাঁটা শুরুর আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিন। চিকিৎসক কতক্ষণ ও কত গতিতে হাঁটা নিরাপদ, তা আপনার শারীরিক অবস্থা দেখে বলতে পারবেন।
বয়স্কদের জন্য কেমন ট্রেডমিল ভালো
কম গতিতে শুরু করা যায়, এমন মেশিন। খুব কম গতি থেকে ধাপে ধাপে বাড়ানো যায়, এমন মেশিন বয়স্কদের জন্য উপযোগী।
চওড়া বেল্ট। বেল্ট চওড়া হলে পা ফেলার জায়গা বেশি থাকে এবং ভারসাম্য রাখা সহজ হয়।
মজবুত হ্যান্ডেল। দুই পাশে শক্ত হ্যান্ডেল থাকলে প্রয়োজনে ধরে ভারসাম্য সামলানো যায়।
ভালো কুশনিং। নরম শক অ্যাবজর্পশন হাঁটু ও গোড়ালির ওপর চাপ কমায়।
সেফটি কি ও সহজ কন্ট্রোল। বড় ও স্পষ্ট বোতাম এবং জরুরি অবস্থায় থামানোর সেফটি কি অবশ্যই থাকা উচিত।
কম উচ্চতার ওঠার ধাপ। মেশিনে ওঠা-নামা সহজ হলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
হাঁটার সময় ও গতি কেমন হবে
বয়স্কদের জন্য কোনো ধরাবাধা সংখ্যা নেই, কারণ একেক জনের সামর্থ্য একেক রকম। তবে সাধারণ কিছু নীতি মানা যায়:
- শুরুতে ৫ থেকে ১০ মিনিট ধীর গতিতে হাঁটুন।
- ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিটে নিয়ে যান, যদি শরীর সায় দেয়।
- এমন গতি রাখুন, যাতে হাঁটতে হাঁটতে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা যায়।
- ইনক্লাইন বা ঢাল শুরুতে একদম শূন্যে রাখুন।
- সপ্তাহে ৩ থেকে ৫ দিন যথেষ্ট, মাঝে বিশ্রাম নিন।
নিরাপত্তার জরুরি নিয়মগুলো
১. সেফটি কি আটকে রাখুন। ক্লিপটি পোশাকের সঙ্গে লাগান, যাতে হোঁচট খেলে মেশিন সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায়।
২. পাশে কেউ থাকুক। বিশেষ করে প্রথম কয়েকদিন পরিবারের কেউ কাছাকাছি থাকলে ভালো।
৩. চলন্ত বেল্টে উঠবেন না। আগে দুই পাশের ফুটবোর্ডে দাঁড়ান, তারপর কম গতিতে শুরু করে বেল্টে পা রাখুন।
৪. সামনে তাকিয়ে হাঁটুন। পায়ের দিকে বা পাশে তাকালে ভারসাম্য নষ্ট হয়।
৫. সঠিক জুতা পরুন। পিছলে যায় না এমন, আরামদায়ক স্পোর্টস জুতা ব্যবহার করুন।
৬. হঠাৎ থামবেন না। শেষে ৫ মিনিট গতি কমিয়ে ধীরে হেঁটে তারপর থামুন।
৭. অসুস্থ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন। মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি লাগলে ব্যায়াম বন্ধ করে বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে যান।
ট্রেডমিল কেনার সময় পরিবারকে যা দেখতে হবে
বয়স্ক সদস্যের জন্য মেশিন কেনার সময় শুধু দাম নয়, নিরাপত্তা ফিচার, সার্ভিস সুবিধা ও ওয়ারেন্টিও দেখা জরুরি। একসঙ্গে বিভিন্ন মডেল ও বাংলাদেশে ট্রেডমিল কিনুন পাতায় থাকা তালিকা মিলিয়ে নিলে বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী মেশিন বাছা সহজ হয়। কিনে আনার পর ঠিকমতো বসানো ও কীভাবে চালাতে হয়, তা বয়স্ক সদস্যকে বুঝিয়ে দেওয়াও জরুরি।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: ৬০ বছরের বেশি বয়সে কি ট্রেডমিলে হাঁটা নিরাপদ? উত্তর: অনেকের জন্য ধীর গতিতে হাঁটা নিরাপদ ও উপকারী। তবে স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
প্রশ্ন: বয়স্কদের জন্য ট্রেডমিলে ঢাল দেওয়া কি ঠিক? উত্তর: শুরুতে না দেওয়াই ভালো। শরীর অভ্যস্ত হলে এবং চিকিৎসক অনুমতি দিলে খুব সামান্য ঢাল দেওয়া যায়।
প্রশ্ন: ট্রেডমিলে পড়ে গেলে কী করব? উত্তর: সেফটি কি আটকানো থাকলে মেশিন থেমে যায়। পড়ে গেলে ব্যথা বা আঘাত লাগলে নিজে ওঠার চেষ্টা না করে সাহায্য নিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে যান।
প্রশ্ন: ট্রেডমিল নাকি বাইরে হাঁটা, বয়স্কদের জন্য কোনটি ভালো? উত্তর: দুটোরই সুবিধা আছে। বাইরে নিরাপদ পরিবেশ থাকলে খোলা বাতাসে হাঁটা ভালো। আবহাওয়া খারাপ বা যাতায়াত কঠিন হলে ঘরের ট্রেডমিল ধারাবাহিকতা রাখতে সাহায্য করে।
শেষ কথা
বয়স্কদের জন্য ট্রেডমিলে হাঁটার মূলমন্ত্র হলো ধীরে শুরু, নিরাপত্তায় কোনো আপস নয় এবং শরীরের সংকেত শোনা। সঠিক মেশিন, সঠিক নিয়ম ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে ঘরে বসেই তাঁরা নিয়মিত সক্রিয় থাকতে পারেন।
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দ্রষ্টব্য: এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।

