রাজধানীর পান্থপথে প্রকাশ্য দিবালোকে এক প্রাইভেটকার চালককে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও ত্রাস সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সেদিন ঢাকা মেট্রো চ ১৯-১২৭৩ নম্বরের একটি নোয়াহ গাড়ি অবিনাশ নামের এক প্রাইভেটকার চালকের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় অবিনাশ গাড়ি থেকে নেমে প্রতিবাদ করলে নোয়াহ গাড়ির চালকের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে নোয়াহ গাড়িতে থাকা বাবা ও ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে অবিনাশকে হুমকি দিতে থাকেন এবং পান্থপথ এলাকার কয়েকজন স্থানীয় যুবককে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রায় ১০ থেকে ১২ জন যুবক সেখানে উপস্থিত হয়ে কোনো কথা না বলেই অবিনাশের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতরভাবে আহত করে।
ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের দিকেও তেড়ে যায় এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা আশিক নামের এক পুলিশ সদস্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বদলে উপস্থিত জনতাকে বলেন, “এরা লোকাল ছেলে, এদের সঙ্গে পারা যাবে না।” পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয়তায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নোয়াহ গাড়ির মালিকের ছেলে হামলাকারী যুবকদের টাকা দিয়ে ভাড়া করে নিয়ে আসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই যুবকরা পান্থপথ ও কারওয়ান বাজার এলাকায় নিয়মিত দোকানপাট ও যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করে এবং টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে গুণ্ডা হিসেবে কাজ করে।
মারধরের ঘটনায় আহত চালক অবিনাশকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি তেজগাঁও থানায় মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে সাধারণ মানুষের নিরাপদে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

